আপাতত লাইন না কাটার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ঢাকার বিদ্যুৎ কোম্পানি

জুনের মধ্যে বিল পরিশোধ না করলে আপাতত লাইন না কাটার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ঢাকার দুই বিদ্যুৎ বিতরণকারী কোম্পানি। একইসঙ্গে গ্রাহক যদি মনে করেন তাদের অতিরিক্ত বিল এসেছে তাহলে স্থানীয় বিদ্যুৎ অফিসে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। এক্ষেত্রে গ্রাহকের বিল ঠিক করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন তারা। তবে জুন পর্যন্ত বিলের ক্ষেত্রে জরিমানা না নেওয়ার কথা বলা হলেও এরপর কী হবে তা মন্ত্রণালয় এখনও কোনও সিদ্ধান্ত নেয়নি বলে জানায় বিতরণ সংস্থাগুলো। ফলে সাধারণ যে নিয়ম রয়েছে তাই কার্যকর হবে। অর্থাৎ বিলে বসবে বিলম্ব মাশুল।

প্রসঙ্গত, গত ১০ জুন বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী জানান, জুন মাসের মধ্যে বিদ্যুৎ বিল না দিলে লাইন কেটে দেওয়া হবে। তবে ওই সময় বিতরণ কোম্পানিগুলো জানায়, কেউ যদি তিন মাসের মধ্যে দুই এক মাসের বিল দেয় তবে সেটি বিবেচনা করা হবে।

এদিকে জুনের মধ্যে কেউ বিল না দিলে পহেলা জুলাই থেকে বিদ্যুৎ লাইন কেটে দেওয়া হবে কিনা তা নিয়ে গ্রাহকরাও উৎকণ্ঠায় রয়েছেন। এ বিষয়টি নিয়ে মন্ত্রণালয়ের একাধিক দায়িত্বপ্রাপ্তদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মহামারি পরিস্থিতিতে মানুষের বিদ্যুৎ নিয়ে কোনও সমস্যা হয় এমন কিছু করা হবে না। আবার মানুষ যাতে বিদ্যুৎ বিল দেয় সে বিষয়েও বিতরণ কোম্পানি চেষ্টা চালাবে। গ্রাহক বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ না করলে বিতরণ-সঞ্চালন এবং উৎপাদন সবখানেই সংকট তৈরি হবে। যা সরকারের একার পক্ষে বহন করা কষ্টসাধ্য।

ডিপিডিসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, আমরা জুনের মধ্যে বিল দিতে বলেছি। কিন্তু কোনও গ্রাহকের যদি অতিরিক্ত বিল আসে সেক্ষেত্রে সে স্থানীয় অফিসে যোগাযোগ করতে পারে। বিল সমন্বয় করে দেওয়া হবে। এছাড়া কেউ যদি বিল জুনের মধ্যে দিতে না পারে তাহলে সেটি আমাদের জানানো হলে আমরা বিষয়টি বিবেচনা করবো। তিনি বলেন, মন্ত্রণালয় থেকে লাইন কেটে দেওয়ার কথা বলা হলেও আমরা একেবারে বাধ্য না হলে লাইন কাটবো না। আমরা চাই গ্রাহকরা দ্রুত তাদের বিল পরিশোধ করুক। কারণ গ্রাহকদের বিলের ওপরই আমাদের অনেক কিছু নির্ভর করে। তিনি বলেন, গ্রাহকদের সবচেয়ে ভালো সেবাটা দিতে চাই আমরা। এক্ষেত্রে মার্চ ও এপ্রিল মাস মিটার রিডাররা বাড়ি বাড়ি গিয়ে মিটার চেক না করে আগের মাসগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে বিল করে দিয়েছে। কিন্তু মে মাসে এসে যখন বাড়ি বাড়ি গিয়ে রিডিং দেখা শুরু হয় তখনই সমস্যা শুরু হয়। আগের দুই মাসের তুলনায় বিল বেশি চলে আসে। তিনি বলেন, অনেকের ক্ষেত্রে তা একেবারে অস্বাভাবিক বেশি চলে আসারও অভিযোগ আমরা পেয়েছি। এই কারণে আমরা দুঃখ প্রকাশ করছি। কোনও গ্রাহক এই সমস্যা নিয়ে এলে আমরা সমন্বয় করে দিচ্ছি।

জুন মাসের মধ্যে বিল না দিলে জরিমানার বিষয়ে তিনি বলেন, জরিমানার বিষয়টি এখনও ঠিক হয়নি। কারণ মন্ত্রণালয় থেকে আমরা এখনও কোনও সিদ্ধান্ত পাইনি।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতীতে কখনও গণহারে বিদ্যুৎ বিলের জন্য লাইন কাটা হয়নি। আর সাধারণত দুই তিন মাসের বিল বকেয়া পড়লে লাইন কাটাও হয় না। ওই গ্রাহক যদি মাসের পর মাস বিল না দিয়ে বিদ্যুৎ ব্যবহার করেন তখন গ্রাহককে সতর্ক করা হয়। এক্ষেত্রে বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানির স্থানীয় অফিস থেকে গ্রাহককে চিঠিও দেওয়া হয়। কোনও ক্ষেত্রে গ্রাহক যদি অপারগতা জানিয়ে একবারে বিল দিতে না পারে, তখন কিস্তিও করে দেওয়া হয়।

ডেসকোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাউসার আমির আলী বলেন, আমরা লাইন কাটবো না। জরিমানার ক্ষেত্রে যে গ্রাহক যেভাবে বিল দিচ্ছে আমরা সেভাবেই এখন নিচ্ছি। বিশেষ করে বাসাবাড়ির বিলের ক্ষেত্রে। জুন পর্যন্ত তো সারচার্জ হবে না বলা ছিলই। এর বাইরের অন্য গ্রাহকদের যদি সারচার্জ ছাড়া বিল দেয় তাদের বিলও আমরা নিয়ে নিচ্ছি। তিনি বলেন, অতিরিক্ত বিলের ক্ষেত্রে আমরা সমন্বয় করছি। কোনও গ্রাহক সময় চাইলে সময়ও দেওয়া হচ্ছে। বিল সংক্রান্ত এই পর্যন্ত আমরা প্রায় সাড়ে তিন হাজার অভিযোগ পেয়েছি। তবে আমরা এই মাসে আমরা যে রিডিং নিচ্ছি তা একেবারে মিটার দেখেই । ফলে এখন থেকে আর সমস্যা হবে না বলে মনে করছেন তিনি।

About স্টাফ রিপোর্টার

Check Also

হেফাজতে ইসলামের আমির জুনায়েদ বাবুনগরী ইন্তেকাল করেছেন

হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী ইন্তেকাল করেছেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। বৃহস্পতিবার …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *