চার মাস পর করোনা রোগী শূন্য চিনের উহান

টানা চার মাস লড়াইয়ের পর রবিবার করোনা পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে এল চিনের উহান। সেখানকার কোনও হাসপাতালে এই মুহূর্তে একটিও করোনা আক্রান্ত রোগী ভর্তি নেই। এ দিন এক জন করোনা রোগী সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরার পরই এই মাইলফলক ছোঁওয়া সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছেন চিনের ন্যাশনাল হেল্‌থ কমিশনের মুখপাত্র মি ফেং।

২৩ জানুয়ারি থেকে একটানা ৭৬ দিন লকডাউনের পর গত ৮ এপ্রিল উহান থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়। তবে লকডাউন উঠে গেলেও সতর্কতা অবলম্বনে কোনও আপস করেনি স্থানীয় প্রশাসন। তাতেই সাফল্য এসেছে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে স্বাস্থ্যকর্মীদেরই এর পুরো কৃতিত্ব দিয়েছেন মি ফেং।

তিনি বলেন, উহানের স্বাস্থ্যকর্মীদের অক্লান্ত পরিশ্রমের জন্যই এই অসাধ্য সাধন সম্ভব হয়েছে। ভাইরাসের মোকাবিলায় দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যে স্বাস্থ্যকর্মীদের পাঠানো হয়েছিল, এই সাফল্যেকর ভাগীদার তাঁরাও। এরই সঙ্গে সমগ্র হুবেই প্রদেশে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা আগের তুলনায় ৫০ শতাংশ কমে গিয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

গত ২০ দিনে সেখানে নতুন করে কারও করোনায় সংক্রমিত হওয়ার খবর মেলেনি। সমগ্র চিনেও গত ২৪ ঘণ্টায় ১১ জন নতুন করে কোভিড-১৯ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে পাঁচ জন বিদেশ থেকে ফিরেছেন বলে খবর। এক জন গুয়াংঝৌ প্রদেশের বাসিন্দা। বাকি পাঁচ জন হেলংজিয়াং প্রদেশের, সীমান্ত সংলগ্ন রাশিয়া থেকে গত কয়েক দিনে বেশ কয়েক জন করোন সংক্রমিত রোগী সেখানে ঢুকেছেন।

রবিবার চিনে কোনও করোনা রোগীর মৃত্যুও হয়নি। এই নিয়ে টানা ১১ দিন করোনার প্রকোপে সেখানে কোনও প্রাণহানি ঘটল না। নোভেল করোনার প্রকোপে সবমিলিয়ে ৪ হাজার ৬৩৬ জন সেখানে প্রাণ হারিয়েছেন এখনও পর্যন্ত। করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ৮৩ হাজার ৯০৯ জন।

এদিকে উৎপত্তিস্থল উহান করোনার থাবা থেকে মুক্ত হলেও এখনো ভাইরাসটি ভয়াল থাবা বিস্তার করেছে বিশ্ব জুড়ে। প্রতিদিনই বাড়ছে মৃত্যু ও আক্রান্তের সংখ্যা। ইতিমধ্যে মৃত্যুর সংখ্যা ২ লাখ ৪ হাজার, আর আক্রান্তের সংখ্যা ২৯ লাখ ৩০হাজার।

About স্টাফ রিপোর্টার

Check Also

সংবাদ সম্মেলনে এসে শান্তির বার্তা দিল তালেবান

বিশ্বকে চমকে দিয়ে অতি দ্রুত কাবুল দখল করে ফেলার দুদিন পর মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাজধানীতে সংবাদ …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *