তেহরানের সব কটি আসনে জয়ের পথে সংস্কারপন্থীরা

ইরানের পার্লামেন্ট নির্বাচনে সংস্কারপন্থীরা বড় ধরনের জয় পেতে যাচ্ছে। আগাম ফলে দেখা গেছে, রাজধানী তেহরানের সব কটি আসন তাদের দখলে যাচ্ছে। শনিবার রাতে নির্বাচন পরিচালনা কর্তৃপক্ষ তেহরানের ৯০ শতাংশ ভোট গণনার পর আগাম ফল ঘোষণা করে। কর্তৃপক্ষ বলেছে, চূড়ান্ত ফল ঘোষণা করতে কয়েক দিন সময় লাগতে পারে। আগাম ফলে দেখা গেছে, রক্ষণশীলদের শীর্ষ নেতা গোলাম আলি হাদ্দাদ আদেল নিশ্চিতভাবেই তাঁর আসন হারাচ্ছেন। খবর বিবিসির।
পার্লামেন্ট নির্বাচনের পাশাপাশি ইরানে প্রধানত আলেমদের নিয়ে গঠিত বিশেষজ্ঞ পরিষদের সদস্যদেরও নির্বাচন হচ্ছে। বিশ্বশক্তিগুলোর সঙ্গে ইরানের আলোচিত পরমাণু চুক্তি হওয়ার পর এটাই দেশটির প্রথম নির্বাচন। এ দুই নির্বাচনকে তাই ক্ষমতাসীন সংস্কারপন্থী প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি ও তাঁর আন্তর্জাতিক বিশ্ব, বিশেষ করে পাশ্চাত্যের সঙ্গে সমঝোতার নীতির পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সংস্কারপন্থীদের জয়ের বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে ওঠার পর প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি বলেছেন, ‘জনগণ আবারও তাদের ক্ষমতা দেখিয়েছে এবং তাদের নির্বাচিত সরকারের প্রতি আরও আস্থা প্রদর্শন করে একে আরও শক্তিশালী করেছে।’
ইরানের পার্লামেন্টের মোট আসন ২৯০টি। এর ৩০টি আসন রাজধানী তেহরানে। এ ছাড়া ৮৮ আসনের বিশেষজ্ঞ পরিষদের ১৬টি পড়েছে সেখানেই। সংবাদমাধ্যমগুলো বলেছে, তেহরানের পার্লামেন্ট ও বিশেষজ্ঞ পরিষদের সব আসনে সংস্কারপন্থীদের চূড়ান্ত বিজয় ঘোষণা সময়ের ব্যাপার মাত্র।
পার্লামেন্ট ও বিশেষজ্ঞ পরিষদ উভয় স্থানেই বর্তমানে রক্ষণশীলরা সংখ্যাগরিষ্ঠ। সংস্কারপন্থীরা বেশি আসনে জিতলে জাতীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্ট রুহানি অনেক বেশি স্বচ্ছন্দ হবেন।
‘বিশেষজ্ঞ পরিষদ’ আট বছরের জন্য নির্বাচিত হয়। এর ৮৮ জন সদস্যের প্রায় সবাই শীর্ষস্থানীয় আলেম। এই কর্তৃপক্ষ দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা নিয়োগ করে থাকে। ইরানের বর্তমান শীর্ষ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির বয়স ৭৬ বছর এবং তিনি এখন অসুস্থ। কোনো কারণে খামেনি পদ থেকে সরে দাঁড়ালে কিংবা মারা গেলে নতুন বিশেষজ্ঞ পরিষদই পরবর্তী ‘আয়াতুল্লাহ’ নির্বাচন করবে।
তেহরানের মতো ইরানের বাকি অংশেও রক্ষণশীলদের ভরাডুবি হবে কি না তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে কর্তৃপক্ষের দেওয়া আংশিক ফলাফলের ভিত্তিতে রয়টার্স দেশব্যাপী ফলের যে তালিকা করেছে তাতে দেখা যাচ্ছে, পার্লামেন্টে ৪৪ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী, ৭৯ জন সংস্কারপন্থী এবং ১০৬ জন কট্টর রক্ষণশীল প্রার্থী জয়ী হতে যাচ্ছেন। বাকি আসনের ফলের পূর্বাভাস গতকাল পর্যন্ত দেওয়া সম্ভব হয়নি।
যাঁরা জয়ী হতে যাচ্ছেন তাঁদের মধ্যে আটজন নারী। কয়েকটি আসনের চূড়ান্ত ফল নির্ধারণে এপ্রিলের শেষ নাগাদ লেগে যেতে পারে। ওই সব আসনে কোনো প্রার্থী ন্যূনতম ২৫ শতাংশ ভোট পাননি। ফলে সেখানে আবার ভোট হবে।

About স্টাফ রিপোর্টার

Check Also

সংবাদ সম্মেলনে এসে শান্তির বার্তা দিল তালেবান

বিশ্বকে চমকে দিয়ে অতি দ্রুত কাবুল দখল করে ফেলার দুদিন পর মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাজধানীতে সংবাদ …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *