রুম্পা’র রহস্য উদঘাটনে মাঠে শৃঙ্খলা বাহিনী

স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটির শিক্ষাথী রুবাইয়াত শারমিন রুম্পা বুধবার রাতে তাকে হত্যা করে সন্ত্রাসীরা। তার লাশ উদ্ধার করা হয় দুই ভবনের মাঝ থেকে।

অবশ্য রহস্য উদঘাটনে মাঠে নেমেছে গোয়েন্দারা। প্রাথমিকভাবে এক বয়ফ্রেন্ডকে রাখা হয়েছে সন্দেহের তালিকায়। গোয়েন্দা নজরদারিতে রয়েছে এ বয়ফ্রেন্ড। যে বাসা থেকে তাকে নিচে ফেলা হয়েছে ওই বাসাটিও চিহ্নিত করেছে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী। বয়ফ্রেন্ড ছাড়া আর কারও সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কী-না তা তদন্ত করা হচ্ছে।

বুধবার রাতে রমনা থানাধীন ৬৪/৪ নম্বর সিদ্ধেশ্বরীর সার্কুলার রোডের গলি থেকে রুম্পার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে পুলিশ লাশ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। পুলিশের সুরতহাল প্রতিবেদনে বলা হয়, তরুণীর মেরুদণ্ড, বাঁ হাতের কনুই ও ডান পায়ের গোড়ালি ভাঙা। মাথা, নাক, মুখে জখম এবং রক্তাক্ত অবস্থায় ছিল। ময়নাতদন্তের রিপোর্টে তাকে ধর্ষণ করে হত্যার আলামত পাওয়া গেছে।

৬৪/৪ নম্বর সিদ্ধেশ্বরীর সার্কুলার রোডের গলিতে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে ৩ টি ভবন রয়েছে। একটি বামে, একটি সোজা এবং একটি ডানে। সবগুলোর করিডোর আটকানো। শুধু আয়েশা শপিং কমপ্লেক্স এর সপ্তমতলা এবং দশম তলার করিডোর দিয়ে কাউকে ফেলা যেতে পারে বলে পুলিশের ধারণা। অথবা বাকি দুই বাসার ছাদ থেকে তাকে ফেলে হত্যা করা হয়েছে। ওই তিন ভবনে একাধিক ছেলে ও মেয়েদের মেস রয়েছে। তারা অধিকাংশই প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া। দুই বাসার পেছনে ও আয়শা শপিং কমপ্লেক্সের মধ্যেখানে তার লাশ পড়ে ছিল।

সূত্র জানায়, সিদ্ধেশ্বরীর স্টামফোর্ড ইউনিভারসিটির ক্যাম্পাসে গিয়ে রুম্পার যাবতীয় তথ্য সংগ্রহ করেছে ঢাকা মহানগর পূর্বের গোয়েন্দা পুলিশ ও রমনা থানা পুলিশের একটি দল। রুম্পা বাসা থেকে বের হওয়ার সময় তার মোবাইল ফোনটিও রেখে গিয়েছিলেন। ওই মোবাইল ফোনটি জব্দ করেছে তদন্তকারীরা।

স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হওয়ার পর সেখানে ‘স্ট্রে বার্ড’ নামে একটি কালচারাল সংগঠনের সদস্য হন রুম্পা। রুম্পা ছিলেন ভাল অভিনেত্রী।

পারিবারিক সূত্র জানায়, লাশের ময়নাতদন্ত শেষে নিহতের পরিবারের সদস্যরা তার গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহ সদর উপজেলার বিজয়নগরে নিয়ে যান। এসময় রুম্পার স্বজনরা কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। সেখানে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।

রুম্পার বাবা মো. রোকনউদ্দিন হবিগঞ্জ জেলার পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক হিসাবে কর্মরত। মা নাহিদা আক্তার পারুল গৃহিণী। এক ভাই ও এক বোনের রুম্পা সবার বড়।

রুম্পা ২০১৪ সালে রাজারবাগ পুলিশ লাইনস্ স্কুল থেকে জিপিএ-৫ পেয়ে এসএসসি, ২০১৬ সালে ভিকারুন্নিসা নুন স্কুল এন্ড কলেজ থেকে জিপিএ-৫ এইচএসসি উত্তীর্ণ হন।

রুম্পা স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটির ইংরেজি বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। আর ছোট ভাই আশরাফুল আলম রাজধানীর ঢাকার ন্যাশনাল আইডিয়াল স্কুল এন্ড কলেজে উচ্চ মাধ্যমিকে অধ্যয়নরত।

About স্টাফ রিপোর্টার

Check Also

বরিশাল সিটি করপোরেশনের ১২ কর্মকর্তা-কর্মচারী বরখাস্ত

দুর্নীতির দায়ে বরিশাল সিটি করপোরেশনের ১২ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে স্থায়ীভাবে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে তাদের …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *