সরকারি বাসভবনে ঢুকে ইউএনওকে কোপালো দুর্বৃত্তরা

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলীয় জেলা দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াহিদা খানমকে কুপিয়ে মারাত্মকভাবে ভাবে আহত করেছে দুর্বৃত্তরা। আশঙ্কাজনক অবস্থায় রংপুরে একটি হাসপাতালে নেয়া হয়েছে। পরে সেখান থেকে তাকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকায় আনা হয়। ওই হামলার ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াহিদা খানমের বাবাও গুরুতর আহত হয়েছেন। হামলাকারী ইউএনও’র শিশু সন্তান আদিয়ার (৩) ওপর কোনও আঘাত করেনি বলে সূত্র জানায়।

ঘোড়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ওয়াহিদা খানম ও তার বাবা মুক্তিযোদ্ধা ওমর আলী শেখের (৭০) ওপর হামলায় দুই ব্যক্তি অংশ নেয়। পিপিই পরে ওই দুই দুর্বৃত্ত বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) রাত ২টার দিকে বাসভবনে প্রবেশ করে। তারা নৈশপ্রহরী আব্দুর রাজ্জাককে বেঁধে ফেলে। পরে একজন হাতুড়ি ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে ভেনটিলেটর ভেঙে ঘরে প্রবেশ করে। সেখানে প্রায় ঘণ্টাখানেক অবস্থানের পর হামলাকারীরা বেরিয়ে আসে। ইউএনও’র বাসার সিসিটিভি ফুটেজে এমনটাই দেখা গেছে।

সূত্র জানায়, সিসিটিভির ফুটেজে হামলার সঙ্গে দু’জনকে জড়িত থাকতে দেখা গেছে। তারা দু’জনেই পিপিই পরেছিল। তবে মই বেয়ে ভেনটিলেটর দিয়ে একজন প্রবেশ করে। সে একঘণ্টার মতো সেই রুমে অবস্থান করেছিল বলেও ফুটেজে দেখা গেছে।

গুরুতর আহতাবস্থায় ঘোড়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াহিদা খানমকে ঢাকায় পাঠানো হয়। এদিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে এমপি শিবলী সাদিক বলেন, ঘটনাদৃশ্য দেখে মনে হচ্ছে এটি ডাকাতির উদ্দেশ্যে নয়, তাকে হত্যার উদ্দেশ্যেই হামলা চালানো হয়েছে। এখানে র‌্যাব, পুলিশ, সিআইডি, ডিবির দল তদন্ত করছে। একইসঙ্গে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার রয়েছেন, তারাও বিষয়টি দেখছেন।

জেলা প্রশাসক মাহমুদুল আলম ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে বলেন, আপনাদের বলার মতো এখনও এমন কিছু পাওয়া যায়নি। কিছু পেলে অবশ্যই আপনাদের ডেকে জানানো হবে। তবে এতটুকু বলতে পারি, তাকে হত্যার উদ্দেশ্যেই হামলা চালানো হয়েছে। একজন ইউএনও’র ওপর এমন হামলা হেলাফেলার বিষয় নয়, গুরুত্বের সঙ্গে বিষয়টি দেখা হচ্ছে।

এদিকে অবস্থার অবনতি হওয়ায় ইউএনও ওয়াহিদা খানমকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় রংপুরের চিকিৎসকদের পরামর্শে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়। চিকিৎসকরা জানান, তার মাথার হাড় দেবে গেছে এবং শরীরের একপাশ অবশ হয়ে গেছে। দ্রুত তার অপারেশন করা দরকার। এজন্যই এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।’

ওয়াহিদা খানমের নওগাঁর মহাদেবপুরে বাবার বাড়ি। তার স্বামী মেজবাউল হাসান পীরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। তার বাড়ি দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলায়।

About স্টাফ রিপোর্টার

Check Also

বরিশাল সিটি করপোরেশনের ১২ কর্মকর্তা-কর্মচারী বরখাস্ত

দুর্নীতির দায়ে বরিশাল সিটি করপোরেশনের ১২ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে স্থায়ীভাবে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে তাদের …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *